নারীর অজেয় আবেশ ও পৌরুষের দহন কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন

 

নারীর অজেয় আবেশ ও পৌরুষের দহন

কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন



নয়নে তোমার নীলিমার ছোঁয়া, ওগো মায়াবিনী অনন্যা রূপসী,

তোমার হাসিতে মুক্তো ঝরে আর চাঁদের জোছনা যায় যে মিশি।

চলার ছন্দে দোলা দিয়ে যাও তুমি এই ধরিত্রীর শ্যামল চরে,

তোমার লাবণ্যে মুগ্ধ পুরুষ হৃদয় কেবল তোমারিই তরে গুমরে মরে।

কিন্তু ভুলো না নারী, এ হৃদয়ে আছে আত্মবিশ্বাসের সুদৃঢ় পাহাড়,

তোমার রূপের জাদুতে হারাবো না আমি, মানবো না পরাজয় আর।

বুকের গভীরে লালন করি আমি পৌরুষের এক অটল তেজস্বিতা,

আমার স্বভাবে আছে হিমাদ্রির মৌন আর আগুনের পবিত্রতা।

তোমার আঁখির চপল কটাক্ষ যদি আমায় পাগল করতে চায় কভু,

আমার ব্যক্তিত্বের বর্মে বাধা পেয়ে সে যে থমকে দাঁড়াবেই প্রভু!

সুন্দরী তুমি, তোমার রূপের সুধা পান করতে চায় যে সারা জগত,

কিন্তু আমি সেই ভ্রমর নই যে বিলাই শুধু চাটুকারিতার মরত।

আমার চোখে আছে স্বপ্নের ঝিলিক আর ললাটে দৃঢ়তার স্বাক্ষর,

তোমার ঐশ্বর্য হার মানে দেখে আমার সাহসের উজ্জ্বল আকর।

পাবো কি তোমায়? সে প্রশ্ন থাক, আমি যে নিজেকেই খুঁজেছি চিরকাল,

তুমি তো জানো, বীরের মনেই বাঁধে ভালোবাসার সবচেয়ে শক্ত জাল।

আকর্ষণ আছে, মায়া আছে বটে, তবু আপন গৌরবে আমি যে অজেয়,

তোমার প্রেমে বিলীন হয়েও আমি হারাবো না কভু নিজের আত্মপরিচয়।

দৃঢ় পদক্ষেপে যখন হাঁটি আমি তোমার ছায়ার সমান্তরাল পথে,

তুমি কি দেখোনি বীরত্বের ছাপ আমার দুচোখের নীল রথে?

হে সুন্দরী, তুমি মূর্তিমতী কবিতা, আর আমি এক নির্ভীক কবি,

আমার হৃদয়ে আঁকা রবে চিরদিন তোমার রূপের মায়াবী ছবি।

তবু মাথা নত হবে না কভু, এই চরিত্রে আছে যে বজ্রের কঠোরতা,

সব আকর্ষণের ঊর্ধ্বে থাকল আমার এই আত্মবিশ্বাসী নীরবতা।

Post a Comment

0 Comments