নারীর বাকচাতুর্যের আলপনায় রূপের বন্দনা

 


নারীর বাকচাতুর্যের আলপনায় রূপের বন্দনা

কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন



হে রূপসী, তোমার নয়ন যেন শরতের মেঘমুক্ত এক গভীর নীল আকাশ,

যারে হেরিলে মনে জাগে এক চিরন্তন বিরহ আর মুগ্ধতার দীর্ঘশ্বাস।

কিন্তু জানো কি নারী, আমার কণ্ঠে আছে শব্দের এক অমোঘ ঐশ্বরিক শক্তি,

যেখানে কথা বলার শৈলী আর বাচনভঙ্গিতে ঝরে পড়ে আমার অনুরাগ আর ভক্তি।

তোমার সৌন্দর্যের দীপ্তি যদি আমায় অবশ করে দিতে চায় এই গোধূলি বেলায়,

আমার শব্দের মায়াজাল তোমায় বেঁধে ফেলবে অবলীলায় এক আশ্চর্য নিরালায়।

আমি যখন কথা বলি, বাতাসের বুকে যেন ঝরে পড়ে সহস্র শিউলি ফুলের ঘ্রাণ,

আমার স্বরলিপির প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে থাকে তোমার রূপের এক নতুন ব্যাখ্যান।

সুন্দরী তুমি, তোমার রূপের বিভায় মোহিত হয়ে আজ থমকে আছে সারা জগত,

কিন্তু আমার উচ্চারণের মাধুর্যই শেখাবে তোমায় ভালোবাসার সেই আসল মরত।

বাক্য যখন সাজাই আমি তোমার তরে, ছন্দের দোলায় কেঁপে ওঠে তোমার হিয়া,

আমার বাচনভঙ্গির জাদুতে যেন মৌন এই প্রকৃতি আজ উঠেছে অঝোরে জাগিয়া।

পৌরুষের সেই গাম্ভীর্য মেশানো আমার কন্ঠের প্রতিটি সাবলীল তীক্ষ্ণ স্বর,

ভেঙে দিতে পারে তোমার ওই গরিমা আর অহঙ্কারের সব বালুচর।

তব কটাক্ষের চেয়েও ধারালো আমার শব্দের চাতুর্য আর বলা অলঙ্কার,

যাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে আমাদের এই প্রেমের এক অনিন্দ্য মায়াবী সংসার।

আকর্ষণ তো দেহলতার নয় কেবল, আকর্ষণ থাকে বাচনভঙ্গির ওই গূঢ় মায়ায়,

আমি তোমায় জয় করবো গানে আর কথায়, স্নিগ্ধ কোনো এক গাছের ছায়ায়।

সব রূপই একদিন ম্লান হবে, রয়ে যাবে কেবল এই কন্ঠের স্মৃতি আর কথা,

শব্দের তুলিতে লিখে যাবো আমি তোমার তরে জমানো সব মধুর ব্যাকুলতা।

হে অনন্যা, সৌন্দর্য তো তোমার অলঙ্কার, কিন্তু আমার শব্দই হলো আমার প্রাণ,

বাচনভঙ্গির এই সিংহাসনে বসে গাইবো চিরদিন তোমার রূপের জয়গান।

ভাবগম্ভীর এই অনুরাগে মিশে থাকল আমার এই চারিত্রিক একনিষ্ঠ বৈশিষ্ট্য,

শব্দের জাদুতে বন্দি করে রাখবো তোমায়, ওগো আমার জীবনের পরম আরাধ্য।



Post a Comment

0 Comments