নারীর অগ্নিশিখা ও অনন্যার নির্ভীক আরাধনা
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
হে রণরঙ্গিনী সুন্দরী, তোমার ললাটে ভোরের সূর্যের মতো দীপ্ত এক তেজস্বিতা,
তব নয়নযুগলে বিম্বিত হয় সহস্র ঝড়ের মোকাবিলা করা এক অদম্য অকুতোভয়তা।
সুন্দরী তুমি, তব রূপের লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে থমকে দাঁড়ায় কামনার চপল যত রথ,
কিন্তু তোমার নির্ভীক পদক্ষেপে কেঁপে ওঠে অন্যায়ের সব জীর্ণ ও অন্ধকার পথ।
সৌন্দর্য তো কেবল লতার মতো নুয়ে পড়া নয়, সে তো এক বজ্রকঠিন শুদ্ধ লড়াই,
যেখানে তোমার সাহসের দীপ্তিতে খুঁজে পাই আমি জীবনের শ্রেষ্ঠ এক পরম বড়াই।
তোমার প্রতিটি সাহসের গল্পে মিশে থাকে এক রাজকীয় ও গম্ভীর নিজস্ব এক শৌর্য,
তব ব্যক্তিত্বের সীমানায় এসে হার মানে পৃথিবীর সবটুকু কাপুরুষোচিত মৌর্য।
পুরুষের মন তোমায় পেতে চায় দেখে তব কায়া আর ওই আশ্চর্য সুন্দর অলঙ্কার,
কিন্তু থমকে দাঁড়ায় দেখে তোমার অকুতোভয় চিত্তের ওই মহিমান্বিত এক পরিষ্কার।
তুমি সেই নারী নও, যে বিপদে পড়লে শুধু আশ্রয়ের তরে নয়নে ঝরায় জল,
তোমার সাহসের দুর্ভেদ্য প্রাচীরে প্রতিধ্বনিত হয় অদম্য শক্তির এক অটল কলবল।
আকর্ষণ তো কেবল ছায়ার মতো অনুগমন করা কোনো এক নামহীন মোহিনী টান নয়,
আসল মায়া তো তোমার ওই নির্ভীক হৃদয়ে, যা জয় করে নিয়েছে মরণ আর ভয়।
তব রূপের শিখা যদি আমায় দহন করে এই নির্জন ও স্তব্ধ কোনো এক গোধূলি বেলায়,
তোমার সাহসিকতার তেজ যেন আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় বীরত্বের কোনো এক ভেলায়।
সুন্দরী হওয়ার চেয়েও তুমি বড় বেশি অকুতোভয়, এ কথা সাক্ষী দেবে মহাকাল,
তব চারিত্রিক এই বীর্যেই বুনে দিলে তুমি আমাদের এই ভালোবাসার সবচেয়ে শক্ত জাল।
সবাই তো রূপের আরাধনা করে, চায় শুধু তব সুকোমল ওই তনুর একটুখানি ছোঁয়া,
আমি মজেছি তোমার ওই নির্ভীকতায়, যেখানে নেই কোনো ভীরুতার বিষণ্ণ ধোঁয়া।
তব ব্যক্তিত্বের গভীরে যে আগুনের শিখা, তা-ই দেয় তোমার সৌন্দর্যে এক নতুন প্রাণ,
মুগ্ধ পুরুষ আমি, তাই তোমার ওই সাহসের মন্দিরে অর্পণ করি আমার সবটুকু গান।
রয়ে যাবে এই রূপের আভা, রয়ে যাবে তোমার ওই চারিত্রিক অটল বীরত্বের সুর,
তব নির্ভীকতা যেন চিরকাল আমার এই তপ্ত হৃদয়কে করে রাখে ক্লান্তিহীন ও সুদূর।
হে মায়াবিনী, তোমার রূপের সাথে মিশে থাকুক তোমার ওই অটুট চারিত্রিক তেজ,
আমার পৌরুষ নত হোক তব সাহসের পাশে, যেখানে নেই কোনো হীনমন্যতার রেশ।
ভাবগম্ভীর এই অনুরাগে মিশে থাকল তোমার ওই নির্ভীক এক পরম রাজকীয় মহিমা,
তোমার রূপ আর সাহসের চরণে আজ সঁপে দিলাম আমার এই ভালোবাসার শেষ সীমা।
0 Comments