নারীর ধৈর্যের মোহনায় রূপের স্থিরতা
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
হে মায়াবিনী, তোমার নয়নে যেন এক শান্ত সাগরের অতল ও নিবিড় নীলিমা,
তব ললাটে বিম্বিত হয় ধৈর্যের এক অনুপম আর অলৌকিক শুভ্র মহিমা।
সুন্দরী তুমি, তোমার রূপের শিখা দেখে জাগে মনে এক দুর্বার চপল আকর্ষণ,
কিন্তু থমকে দাঁড়ায় এই পুরুষ হৃদয় দেখে তব স্থিতধী ও অবিচল এক মন।
সৌন্দর্য তো ক্ষণিক উম্মাদনা, যা ঝড়ের বেগে আসে আর নিমেষে হারায় দিশা,
কিন্তু তোমার ধৈর্যের শীতল ছায়ায় দূর হয় জীবনের সব তপ্ত ও জমাট অমানিশা।
সবাই তো রূপের আরাধনা করে, খোঁজে শুধু তব আঁখিপল্লবের চঞ্চল ইশারা,
আমি মজেছি তোমার ওই সহনশীলতায়, যা অস্থির হৃদয়ে আনে শান্তির ধারা।
তব চারিত্রিক দৃঢ়তা যেন এক বিশাল মহীরুহ, যা সয়ে যায় সব ঝড় আর আঘাত,
তোমার ওই মৌন ধৈর্যের কাছে নতি স্বীকার করে পুরুষের সব উদ্ধত দর্প আর হাত।
তুমি জানো কখন থামতে হয়, জানো কেমন করে সইতে হয় সব মিছে অপবাদ,
তব ব্যক্তিত্বের এই প্রশান্তিতেই লুকিয়ে আছে প্রেমের এক পরম ও পবিত্র স্বাদ।
আকর্ষণ তো কেবল তনুমন দেখে জাগা কোনো এক নামহীন শরীরী দহন নয়,
আসল মায়া তো তোমার ওই সহিষ্ণু হৃদয়ে, যা জয় করে নেয় সব ঘৃণা আর ভয়।
তব রূপের লাবণ্য যদি আমায় মুগ্ধ করে এই নির্জন ও বিষণ্ন গোধূলি বেলায়,
তোমার ধৈর্যশীল মানসিকতা যেন আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় কোনো এক পরম ভেলায়।
সুন্দরী হওয়ার চেয়েও তুমি বড় বেশি ধরিত্রীসম, এ কথা চিরকাল অম্লান রবে,
তব চারিত্রিক এই ঐশ্বর্যই তোমায় অনন্যা করে রাখবে আমাদের এই পার্থিব ভবে।
জীবনের সব প্রতিকূলতায় যখন তুমি থাকো অটল ও স্থির কোনো এক ধ্রুবতারার মতো,
আমার পুরুষ সত্তা তখন বিস্মিত হয় দেখে তব অন্তরের ওই সৌন্দর্য চিরকাল অবিরত।
তব হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখা সব দীর্ঘশ্বাস আর ধৈর্যের ওই নীরব স্বাক্ষর,
আমায় বাধ্য করে তোমার প্রেমে বিলীন হতে, যেখানে তুমি এক মহৎ গুণের আকর।
ভাবগম্ভীর এই অনুরাগে মিশে থাকল তোমার ওই সহিষ্ণু এক শান্ত মায়ার সুর,
তব ধৈর্য যেন চিরকাল আমার এই তপ্ত হৃদয়কে করে রাখে ক্লান্তিহীন ও সুদূর।
হে মায়াবিনী, তোমার রূপের সাথে মিশে থাকুক তোমার ওই অটুট চারিত্রিক স্থিরতা,
আমার পৌরুষ নত হোক তব সহনশীলতার পাশে, যেখানে নেই কোনো চপল ব্যাকুলতা।
তব ব্যক্তিত্বের এই গভীর মোহনায় আজ বিসর্জন দিলাম আমার সবটুকু অহঙ্কার,
তোমার রূপ আর ধৈর্যের চরণে সঁপে দিলাম এই সমর্পিত জীবনের সবটুকু অধিকার।
0 Comments