নারীর বুদ্ধিমত্তা ও উপস্থিত বুদ্ধি
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
হে অনন্যা, তোমার রূপের শিখা জাগায় মনে এক আদিম সুপ্ত শিহরণ,
নয়ন মেললেই দেখি সেখানে কারুকাজ করা এক আশ্চর্য রাজকীয় আবরণ।
কিন্তু ভুলো না নারী, এ হৃদয়ে আছে ধীশক্তি আর প্রজ্ঞার এক অতন্দ্র প্রহরী,
তোমার মায়ার রাজ্যে আমি এক সজাগ নাবিক, বুদ্ধির দাঁড়ে তরী যে ধরি।
সুন্দরী তুমি, তোমার কটাক্ষে থমকে যেতে পারে সহস্র চপল পথিকের প্রাণ,
কিন্তু আমার উপস্থিত বুদ্ধি গড়ে তোলে যুক্তির এক দুর্ভেদ্য চতুর পিধান।
তোমার হাসির প্রতিটি তরঙ্গে আমি খুঁজি কোনো নিগূঢ় গূঢ় ইশারা,
আমার মস্তিষ্কের নিউরণে খেলে যায় এক ত্বরিত চেতনার অবাধ্য ধারা।
মুগ্ধ পুরুষ আমি, তব তনুমন দেখে জাগে মনে এক চিরন্তন প্রবল আকর্ষণ,
তবু বুদ্ধির দীপ্তিতে আমি বিচার করি তোমার সত্তার প্রতিটি সূক্ষ্ম অনুষঙ্গ।
রূপের জাদুতে বিলীন হওয়া নয়, বরং তাকে জয় করাই হলো আসল পৌরুষ,
আমি তো সেই যে সব সংকটে খুঁজে পায় সমাধানের এক আলোকময় ফানুস।
তব রূপের লাবণ্যে আছে যদি কোনো জটিল ধাঁধার কুহকী ঘোর অমানিশা,
আমার ক্ষুরধার মেধা খুঁজে নেবে নিমেষে মিলনের এক সঠিক ধ্রুব দিশা।
কেবল চর্মচক্ষে তোমায় দেখিনা, দেখি অন্তরের সেই মননশীল বিচার দিয়ে,
যেখানে প্রেম আর প্রজ্ঞা মিলেমিশে রয় এক অটুট বন্ধনের সওদা নিয়ে।
তুমি যদি হও এক অস্থির মেঘমালা, আমি তবে স্থির বাতাসের অমোঘ যুক্তি,
তোমার মোহিনী রূপের কারাগারেও খুঁজে পাই আমি বুদ্ধির এক পরম মুক্তি।
উপস্থিত বুদ্ধির তীক্ষ্ণ বাণে আমি রুখে দিতে পারি সব ছলনার মায়াজাল,
সুন্দরী তুমি, তবু তোমার ব্যক্তিত্বের গভীরতা মাপতে আমি যে চিরকাল।
এই আকর্ষণে আছে শ্রদ্ধার মিশেল, আছে মেধার এক অঘোষিত গর্বের লড়াই,
তোমার রূপের পাশে আমার বুদ্ধি থাকল আজ জীবনের শ্রেষ্ঠ পরম বড়াই।
রোমান্টিক এই দহন বেলায় সাক্ষী থাকুক আকাশের ওই নিঃসঙ্গ শুকতারা,
বুদ্ধিমত্তার চরণে আজ মাথা নত করল তোমার ওই রূপের পাগলপারা ধারা।
0 Comments