নারীর মর্যাদার সিংহাসনে রূপের মহিমা
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
হে অনন্যা, তোমার ললাটে আঁকা আছে এক অটল ও প্রখর আত্মসম্মান,
তব নয়নযুগলে বিম্বিত হয় এক নির্ভীক চেতনার চিরন্তন সুউচ্চ সুপান।
সুন্দরী তুমি, তোমার রূপের বিভায় মোহিত হয়ে থমকে দাঁড়ায় সারাটি পথ,
কিন্তু তোমার চারিত্রিক দৃঢ়তার কাছে হার মানে পুরুষের লালসার সব রথ।
সৌন্দর্য তো কেবল বসন্তের পলাশ নয়, সে তো এক বজ্রকঠিন শুদ্ধ অভিমান,
যেখানে তোমার মাথা নত না করার ছন্দে খুঁজে পাই আমি জীবনের শ্রেষ্ঠ গান।
তোমার প্রতিটি পদক্ষেপে মিশে থাকে এক রাজকীয় ও গম্ভীর নিজস্ব গরিমা,
তব ব্যক্তিত্বের সীমানায় এসে থমকে যায় রূপমুগ্ধ সব চপলতার নীলিমা।
পুরুষের মন তোমায় পেতে চায় দেখে তব দেহলতার ওই আশ্চর্য কারুকাজ,
কিন্তু থমকে দাঁড়ায় দেখে তোমার আত্মমর্যাদার ওই মহিমান্বিত রাজকীয় সাজ।
তুমি সেই নারী নও, যে সস্তা স্তুতিতে বিলায় নিজের অমূল্য ওই হাসির রেখা,
তোমার সম্মানের দুর্ভেদ্য প্রাচীরে কেবল একনিষ্ঠ প্রেমিকেরই মেলে দেখা।
আকর্ষণ তো দেহের নশ্বর খাঁচায় বন্দি থাকা কোনো এক নামহীন চপল টান নয়,
আসল মায়া তো তোমার ওই উন্নত শির, যা জয় করে নেয় সব গ্লানি আর ভয়।
তব রূপের শিখা যদি আমায় দহন করে এই নির্জন ও নিঃসঙ্গ গোধূলি বেলায়,
তোমার আত্মসম্মানবোধের তেজ যেন আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় শুদ্ধতার ভেলায়।
সুন্দরী হওয়ার চেয়েও তুমি বড় বেশি মর্যাদাবান, এ কথা সত্য চিরকাল,
তব চারিত্রিক রোশনাই যেন বুনে দেয় আমাদের এই ভালোবাসার সবচেয়ে শক্ত জাল।
সবাই তো রূপের আরাধনা করে, চায় শুধু তব আঁখিপল্লবের একটুখানি ছোঁয়া,
আমি মজেছি তোমার ওই আত্মমর্যাদায়, যেখানে নেই কোনো মিথ্যে মায়ার ধোঁয়া।
তব ব্যক্তিত্বের গভীরে যে আত্মবিশ্বাস, তা-ই দেয় তোমার সৌন্দর্যে প্রাণ,
মুগ্ধ পুরুষ আমি, তাই তোমার ওই সম্মানের মন্দিরে অর্পণ করি আমার সবটুকু গান।
রয়ে যাবে এই রূপের আভা, রয়ে যাবে তোমার ওই চারিত্রিক অহঙ্কারের সুর,
তব আত্মসম্মানবোধ যেন চিরকাল আমার এই তপ্ত হৃদয়কে করে রাখে সুদূর।
হে মায়াবিনী, তোমার রূপের সাথে মিশে থাকুক তোমার ওই অটুট চারিত্রিক তেজ,
আমার পৌরুষ নত হোক তব মর্যাদার পাশে, যেখানে নেই কোনো কপটতার রেশ।
ভাবগম্ভীর এই অনুরাগে মিশে থাকল তোমার ওই আত্মসম্মানী এক পরম মহিমা,
তোমার রূপ আর সম্মানের চরণে আজ সঁপে দিলাম আমার এই ভালোবাসার শেষ সীমা।
0 Comments