নারীর আশাবরী রূপ ও আলোকময় এক হৃদয়
কবি : আব্দুল মুসরেফ খাঁন
হে চিরসুন্দরী, তোমার নয়নে যেন ঝিলিক দেয় এক ভোরের নতুন সূর্যোদয়,
তব হাসির আভায় মুছে যায় জগতের যত গ্লানি আর জমাট বাঁধা সংশয়।
তোমার রূপের মায়ায় মজেছে কত শত দিশেহারা পথিকের ব্যাকুল আঁখি,
কিন্তু আমি দেখি তব ইতিবাচক মনের মাঝে এক নির্ভীক সোনার পাখি।
সৌন্দর্য তো কেবল ত্বকের লাবণ্য নয়, সে তো এক অন্তহীন পবিত্র আলোর ধারা,
যেখানে তোমার আশাবাদী দৃষ্টিতে খুঁজে পাই আমি জীবনের হারানো ধ্রুবতারা।
চারিদিকে যখন হতাশার কালো মেঘ জমে আর বাড়ে বিষণ্নতার কঠিন পাথর,
তোমার একটি ইতিবাচক কথা যেন এনে দেয় হৃদয়ে এক বসন্তের মধুর প্রহর।
সুন্দরী তুমি, তবু তোমার চারিত্রিক দৃঢ়তায় নেই কোনো আঁধার বা বিমর্ষতার ছাপ,
তব সান্নিধ্যে এলে জুড়িয়ে যায় পুরুষের মনের সব দহন আর অলক্ষুণে বিলাপ।
তুমি যদি হও এক অস্থির সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো বাতিঘর,
তবে আমি সেই জাহাজ, যে তোমার আলোর নেশায় পাড়ি দেয় উত্তাল সাগর।
তব রূপের শিখা জাগায় মনে এক আদিম প্রলয়ংকরী গভীর সম্মোহনী টান,
কিন্তু তোমার উজ্জ্বল দৃষ্টিভঙ্গিই হলো আমার বাঁচার শ্রেষ্ঠ এক অভিধান।
বিফলতাকে তুমি বরণ করো হাসিমুখে, যেন সে এক নতুন জয়ের সোপান,
তব ব্যক্তিত্বের এই মাধুর্য দেখে থমকে দাঁড়ায় প্রকৃতির সবটুকু কলতান।
আকর্ষণ তো নয় কেবল সুঠাম দেহলতা আর কুঞ্চিত ওই চুলের কালো ঘোর,
আসল মায়া তো তোমার বিশ্বাসের বলয়ে, যা কাটায় অমানিশার আঁধার ঘোর।
সবাই তো রূপের পূজারী, আরাধনা করে তব দেহের ওই অনুপম কারুকাজ,
আমি মজেছি তোমার ওই মনের আলোয়, যা পরেছে আত্মবিশ্বাসের রাজকীয় সাজ।
তব ইতিবাচক ভাবনার প্রতিটি রেখায় আমি খুঁজে পাই জীবনের সার্থকতা,
সুন্দরী নারীর এই মহৎ গুণেই বাড়ে প্রেম আর হৃদয়ের সবটুকু গভীরতা।
রয়ে যাবে এই রূপের স্মৃতি, রয়ে যাবে তোমার ওই আশাবাদী এক জোরালো সুর,
তব চারিত্রিক রোশনাই যেন চিরকাল আমার এই তপ্ত জীবনকে করে রাখে সুদূর।
হে মায়াবিনী, তোমার হাসির প্রতিটি চরণে থাকুক আগামী দিনের উজ্জ্বল স্বাক্ষর,
আমার পৌরুষ নত হোক তব মননের পাশে, যেখানে তুমি এক জয়ের আকর।
ভাবগম্ভীর এই অনুরাগে মিশে থাকল তোমার ওই প্রাণবন্ত এক আলোর গান,
তোমার রূপ আর ইতিবাচকতার চরণে আজ সঁপে দিলাম আমার এই সমর্পিত প্রাণ।
0 Comments