মহাভারতের শল্যপর্ব কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ১৮তম বা শেষ দিনের কাহিনী বর্ণনা
মহাভারতের শল্যপর্ব কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ১৮তম বা শেষ দিনের কাহিনী বর্ণনা করে। এটি অত্যন্ত আবেগঘন এবং নাটকীয় একটি পর্ব, যেখানে কৌরবদের চূড়ান্ত পরাজয় এবং দুর্যোধনের পতন ঘটে।
এই পর্বের মূল কাহিনীগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. শল্যর সেনাপতিত্ব গ্রহণ
কর্ণের মৃত্যুর পর দুর্যোধন মদ্ররাজ শল্যকে কৌরব সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করেন। শল্য অত্যন্ত বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করলেও শেষ পর্যন্ত যুধিষ্ঠিরের হাতে নিহত হন।
২. কৌরব বাহিনীর ধ্বংস
এই দিনেই কৌরব পক্ষের অবশিষ্ট মহারথীরা একে একে বিদায় নেন। শকুনিকে সহদেব বধ করেন এবং কৌরবদের বিশাল বাহিনী প্রায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। শেষে দুর্যোধন ছাড়া বড় কোনো যোদ্ধা আর জীবিত ছিলেন না।
৩. দুর্যোধনের দ্বৈপায়ন হ্রদে আত্মগোপন
নিজের পরাজয় নিশ্চিত দেখে এবং প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকার্ত দুর্যোধন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়ে দ্বৈপায়ন হ্রদে জলের নিচে মায়াবলে আত্মগোপন করেন।
৪. পাণ্ডবদের উপস্থিতি ও বিদ্রূপ
পাণ্ডবরা দুর্যোধনের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে হ্রদের তীরে উপস্থিত হন। যুধিষ্ঠির দুর্যোধনকে ভীরু বলে বিদ্রূপ করেন এবং যুদ্ধের জন্য আহ্বান জানান। তিনি প্রস্তাব দেন যে, দুর্যোধন যেকোনো একজন পাণ্ডবের সাথে যুদ্ধ করে যদি জিততে পারেন, তবে রাজ্য তাঁরই থাকবে।
৫. গদাযুদ্ধ: ভীম বনাম দুর্যোধন
দুর্যোধন ভীমকে যুদ্ধের জন্য বেছে নেন। দুজনের মধ্যে দীর্ঘ ও ভয়াবহ গদাযুদ্ধ হয়। দুর্যোধন গদাযুদ্ধে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, তাই ভীম তাঁকে সহজে হারাতে পারছিলেন না।
৬. কৃষ্ণের সংকেত ও দুর্যোধনের পতন
গদাযুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী নাভির নিচে আঘাত করা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু দুর্যোধনকে অন্যভাবে মারা অসম্ভব দেখে কৃষ্ণ ভীমকে নিজের ঊরুতে আঘাত করে সংকেত দেন (দুর্যোধনের ঊরু ছিল তাঁর দুর্বল স্থান)। ভীম গদার আঘাতে দুর্যোধনের ঊরু ভেঙে দেন, যার ফলে দুর্যোধন মৃত্যুশয্যায় পতিত হন।
৭. বলরামের ক্রোধ ও কৃষ্ণের মধ্যস্থতা
দুর্যোধনের পতনের পর তাঁর গুরু বলরাম অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন, কারণ ভীম নিয়ম ভঙ্গ করে যুদ্ধ করেছিলেন। কৃষ্ণ তখন বলরামকে শান্ত করেন এবং অধর্ম দমনে এই কৌশলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।
যুদ্ধের ফলাফল একনজরে:
|
পক্ষ |
অবস্থা |
|
কৌরব |
দুর্যোধন মৃত্যুশয্যায়; শুধুমাত্র অশ্বত্থামা, কৃপাচার্য ও কৃতবর্মা জীবিত। |
|
পাণ্ডব |
৫ ভাই এবং কৃষ্ণ জীবিত; কৌরবদের সম্পূর্ণ পরাজয়। |
শল্যপর্বের শেষেই কুরুক্ষেত্রের মূল যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে, তবে এর পরেই রাতের অন্ধকারে অশ্বত্থামার প্রতিশোধের কাহিনী শুরু হয় (সৌপ্তিক পর্ব)।
শল্যপর্বের পর সৌপ্তিক পর্ব মহাভারতের অন্যতম অন্ধকার এবং প্রতিশোধপরায়ণ একটি অধ্যায়। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের যাবতীয় বীরত্ব ও নৈতিকতাকে ছাপিয়ে এই পর্বে দেখা যায় এক ভয়ংকর প্রতিহিংসা।
আপনি যদি চান, তবে আমি এই পর্বের মূল ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করতে পারি। যেমন:
·
অশ্বত্থামার শপথ: দুর্যোধনের মুমূর্ষু অবস্থা দেখে অশ্বত্থামার ক্রোধ এবং পাণ্ডব বংশ ধ্বংস করার প্রতিজ্ঞা।
·
রাত্রিকালীন আক্রমণ: যুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘন করে গভীর রাতে ঘুমন্ত পাণ্ডব শিবিরে অশ্বত্থামা, কৃপাচার্য ও কৃতবর্মার প্রবেশ।
·
দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্রের হত্যাকাণ্ড: পাণ্ডবদের মনে করে তাদের পাঁচ পুত্রকে অশ্বত্থামার হাতে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা।
·
ব্রহ্মশির অস্ত্রের প্রয়োগ: অশ্বত্থামা ও অর্জুনের মধ্যে দিব্যাস্ত্রের লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত অশ্বত্থামার শাস্তি (কপালে থাকা মণি হরণ ও চিরকাল রোগব্যাধি নিয়ে বেঁচে থাকার অভিশাপ)।
@আব্দুল মুসরেফ খাঁন @কনকপুর 🌐@পাঁশকুড়া।।
📌 সাবস্ক্রাইব করুন: https://www.youtube.com/@bengalibabu2026
📌 ফেসবুক পেজ: https://www.facebook.com/share/1BBtH1yCDF/
📌
ইনস্টাগ্রাম: https://www.instagram.com/author_librarystudy?igsh=MTRoZTYwZ2szcTh0bg==

0 Comments