মহাভারতের 'সৌপ্তিক পর্ব'
মহাভারতের 'সৌপ্তিক পর্ব' অত্যন্ত ভয়াবহ ও ট্র্যাজিক একটি অধ্যায়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ১৮তম দিনে দুর্যোধনের পতনের পর অশ্বত্থামা প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে পাণ্ডব শিবিরে যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলেন, তার মূল ঘটনাক্রম নিচে দেওয়া হলো:
১. অশ্বত্থামার প্রতিজ্ঞা ও প্যাঁচার শিক্ষা
পাণ্ডবদের কৌশলে পিতা দ্রোণাচার্যের মৃত্যু এবং ভীমের গদার আঘাতে দুর্যোধনের উরুভঙ্গ—এই দুই অপমানে অশ্বত্থামা জ্বলছিলেন। বনের মধ্যে একটি বটগাছের নিচে বসে তিনি দেখেন একটি প্যাঁচা রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত কাকদের হত্যা করছে। এখান থেকেই তিনি 'নিশি-হত্যা' বা ঘুমান্ত অবস্থায় আক্রমণের অনুপ্রেরণা পান।
২. শিবের আরাধনা ও রুদ্ররূপ ধারণ
পাণ্ডব শিবিরে প্রবেশের মুখে এক বিশাল দিব্য পুরুষ (মহাদেব) অশ্বত্থামাকে বাধা দেন। অশ্বত্থামা তাকে তুষ্ট করতে নিজের দেহ আহুতি দিতে উদ্যত হলে শিব প্রসন্ন হন। পাণ্ডবদের পুণ্যফল শেষ হওয়ায় এবং পাণ্ডবদের অনুপস্থিতিতে শিব অশ্বত্থামার দেহে প্রবেশ করেন এবং তাকে একটি দিব্য তলোয়ার দান করেন।
৩. ধৃষ্টদ্যুম্ন ও দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্রের নিধন
অশ্বত্থামা শিবিরে ঢুকে প্রথমেই তাঁর পিতার হত্যাকারী ধৃষ্টদ্যুম্নকে ঘুমন্ত অবস্থায় নির্মমভাবে পদাঘাত করে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর তিনি একে একে:
·
শিখণ্ডীকে হত্যা করেন।
·
দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্রকে (প্রতিবিন্ধ্য, সুতসোম, শ্রুতকর্মা, শতানীক ও শ্রুতসেন) পাণ্ডব মনে করে হত্যা করেন।
·
পাঞ্চাল সেনার অবশিষ্টাংশকে নির্মূল করেন।
৪. কৃতবর্মা ও কৃপাচার্যের ভূমিকা
অশ্বত্থামা যখন ভেতরে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিলেন, তখন কৃতবর্মা এবং কৃপাচার্য শিবিরের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যারা প্রাণভয়ে ভেতর থেকে পালাবার চেষ্টা করছিল, তারা এই দুজনের হাতে নিহত হয়। পুরো পাণ্ডব শিবির কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
৫. দুর্যোধনের তৃপ্তি ও মহাপ্রয়াণ
হত্যাকাণ্ড শেষ করে অশ্বত্থামা মুমূর্ষু দুর্যোধনের কাছে ফিরে যান এবং পাণ্ডবদের বংশ শেষ হয়েছে বলে সংবাদ দেন (যদিও পাণ্ডবরা তখন শিবিরে ছিলেন না)। এই সংবাদ শুনে দুর্যোধন শান্তিতে প্রাণত্যাগ করেন।
৬. ব্রহ্মশির অস্ত্র ও অভিশাপ
পরদিন সকালে পাণ্ডবরা এই শোকাবহ ঘটনা জানতে পেরে অশ্বত্থামাকে ধাওয়া করেন। নিরুপায় হয়ে অশ্বত্থামা পাণ্ডবদের ধ্বংস করতে 'ব্রহ্মশির' অস্ত্র প্রয়োগ করেন। অর্জুনও পাল্টা অস্ত্র ছাড়েন। ঋষিদের অনুরোধে অর্জুন অস্ত্র ফিরিয়ে নিলেও অশ্বত্থামা তা জানতেন না। তিনি অস্ত্রটি অভিমন্যুর বিধবা স্ত্রী উত্তরার গর্ভস্থ সন্তানের (পরীক্ষিৎ) দিকে ঘুরিয়ে দেন।
·
শ্রীকৃষ্ণ উত্তরা ও তাঁর সন্তানকে রক্ষা করেন।
·
শাস্তিস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ অশ্বত্থামার কপালের মণি কেড়ে নেন এবং তাকে তিন হাজার বছর একাকী ব্যাধিগ্রস্ত অবস্থায় পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ানোর অভিশাপ দেন।
অশ্বত্থামার অভিশাপ বা শিবের সাথে যুদ্ধের কাহিনী মহাভারতের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই কাহিনী অনুসারে, অশ্বত্থামা মহাভারতের যুদ্ধের শেষে পান্ডবদের হত্যা করার জন্য ভগবান শিবের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। এই যুদ্ধে অশ্বত্থামা পরাজিত হন এবং শিব তাকে অমর থাকার অভিশাপ দেন। এই অভিশাপের ফলে অশ্বত্থামা আজ পর্যন্ত বেঁচে আছেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
@আব্দুল মুসরেফ খাঁন @কনকপুর 🌐@পাঁশকুড়া।।
📌 সাবস্ক্রাইব করুন: https://www.youtube.com/@bengalibabu2026
📌 ফেসবুক পেজ: https://www.facebook.com/share/1BBtH1yCDF/
📌
ইনস্টাগ্রাম:
https://www.instagram.com/author_librarystudy?igsh=MTRoZTYwZ2szcTh0bg==

0 Comments